6 May 2016

শাশ্বতী সান্যাল

                           মেজকাকীমা



প্রতিদিন জানালায় যার সাথে দেখা হত
সে আমার পরিচিত নয়,
উত্তরের অপেক্ষা না রেখে প্রশ্ন করে যেত...
বরাবর : দুপুরে কখন খাবে?
ঘর এত অগোছালো কেন?
চোখে ও কী? ও কীসের ক্ষত?

কারা যে জবাব খোঁজে! আমার তো চিরকালই
নীরবতা প্রিয় ডাকনাম
কখনো ঝোঁকেনি মাথা, হাতজোড়া শেখেনি প্রণাম
বিরুদ্ধ হাওয়ার সাথে দেখা হয় কখনো সখনো
পর্দার পিছনের রাত্রিও ইদানীং আর্তনাদ করে:
চোখে ও কী? ও কীসের ক্ষত?
ত্রাণ নেই। কনীনিকা পচে গেছে
বাণভাসী গোটা শৈশব
আদরের নামগুলো চেনা ঘাট ছেড়ে আজ পারাপারহীন ও শাশ্বত
মাঝখানে একটাই ভাঙাচোরা সাঁকো ছিল
ঠিক মেজকাকীমার মত..
ডাকঘর
শীতার্ত ভিক্ষের হাত
অসুখ চেনেনা। তার আঙুলে প্রবল শীতঘুম।
গলে যাওয়া মোম থেকে লীনতাপ তুলে নেয়
ঝাড়বাতি, এই মরশুম
ক্যুরিয়র পাঠাবেনা, তবু আলো জ্বলে ওঠে
চিঠিদের অবয়বে।
তোমার দুচোখও পাঠরত...
খামের শরীর থেকে অনুশাসনের মতো
কবে খুলে নেবে ভুল অক্ষরের ক্ষত?

0 comments: